বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

হোয়াইক্যংয়ে জমি জবর দখলের চেষ্টা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের

বিশেষ প্রতিনিধিঃ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আওতাধীন (৭নং ওয়ার্ড) নয়াবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা দুঃসময়ের আওয়ামী লীগের কান্ডারী (অবিভক্ত ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সফল সভাপতি) মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের ২০বছর ধরে ভোগদখলে থাকা একটা জমিতে চাষাবাদ করতো। তখনকার সময়ে মৃত দুদু মিয়ার ভাইপো আব্দুস শুক্কুর সওদাগরকে বসবাসের জন্য জায়গাটা কিছু শর্তের বিনিময়ে সাময়িকভাবে প্রদান করে থাকে। দীর্ঘ ১৭/১৮বছর বসতি করার পর পরবর্তীতে আব্দুস শুক্কুর সওদাগর অন্যস্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় কথা অনুযায়ী লিখিত ডকুমেন্টসের মাধ্যমে মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্রদের হাতে জায়গাটা সোপর্দ করে যান।

এর পূর্বে জায়গাটার নির্দিষ্ট দলিলপত্র না থাকার শঙ্কায় মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্র মীর আহমেদ সওদাগর উক্ত জায়গার ১৫৩১নং বিএস খতিয়ানের ৯৭১২দাগএর অংশীদার এক ব্যক্তি থেকে নির্দিষ্ট অংকের অর্থের বিনিময়ে ০.০৪একর ভিটাজমি ক্রয় করেন। যার বিএস খতিয়ান নং ১৫৩১, বিএস দাগ নং-৯৭১২।

পরবর্তীতে  আব্দুস শুক্কুর সওদাগর অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর  মীর আহমেদ সওদাগর উক্ত জায়গায় অবস্থান করলে পাশের প্রতিবেশী মৃত মঞ্জুলের ছেলেরা পেশিশক্তির দাপটে উক্ত জায়গা দখলের হুমকি দিতে থাকে।এমতাবস্থায় হঠাৎ গত ২৬ এপ্রিল মৃত মঞ্জুলের পুত্রবধূ অর্থাৎ সরোয়ারের স্ত্রী রোহিঙ্গা হওয়ার সুবাদে তাদের বাড়িতে আশ্রিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে আচমকা অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা করতে থাকে এবং ভোগদখলে থাকা মীর আহমেদ সওদাগরের ঘরভিটায় আক্রমণ করে ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। তারা  মীর আহমেদ সওদাগরের এক পুত্রের উপর সরোয়ার আঘাত করে এবং ভাংচুরের ভিডিও ধারণকৃত মোবাইলটি কেড়ে নেয়।তখন মীর আহমেদ সওদাগর আইনের আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বিষয়টা অবগত করেন।বিষয়টি জেনে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম স্যার তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করতে আসলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীসহ মৃত মঞ্জুলের ছেলেরা উক্ত স্থান থেকে পালিয়ে যায়।তখন দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার জনাব আরিফুল ইসলাম স্যার ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় স্থানীয় দুইজন লোককে বিষয়টি সমাধানে আনার দায়িত্ব দিয়ে যান।

আরিফুল ইসলাম স্যার ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সাথে সাথে হামলাকারীরা আবার এসে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে।মৃত মঞ্জুলের পুত্র সরোয়ার এর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নিয়ে জীবননাশের হুমকি দিয়ে যায়। এমতাবস্থায় মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্রদ্বয়ের পরিবার জীবন এবং ঘরবাড়ির অনিরাপত্তায় ভুগতে থাকে।যা খুবই দুঃখজনক।

এর পরে স্থানীয়দের পরামর্শমতে তাদের(মৃত মঞ্জুলের ছেলেদের) কথা অনুযায়ী হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়ার এক ব্যক্তির নিকট উক্ত ঝামেলার বিচারকার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়।দুঃখজনক হলেও সত্য যে উক্ত বিচারককে মৃত মঞ্জুলের ছেলেরা বিভিন্ন অসদুপায়ে ম্যানেজ করে বসে এবং বিচারক কোন দলিলপত্র ছাড়া গত ১৩ মে মৃত মঞ্জুলের ছেলেদের পক্ষ অবলম্বন করার অপচেষ্টা করে। যা কোনমতেই মেনে নেওয়ার নয়।মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্ররা এই অনিয়মের সমর্থন না করায় মৃত মঞ্জুলের ছেলেরা পুনরায় দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ মীর আহমেদ সওদাগরের ঘরবাড়ির উপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা হলো, ১. সরোয়ার (পিতাঃ আবুল মঞ্জুর), ২. রোহিঙ্গা ছেনুয়ারা (সরোয়ার এর স্ত্রী), ৩. মোক্তার (পিতাঃ ঐ) ৪. সেলিম। (পিতাঃ ঐ) ৫. কাশেম। (পিতাঃ ঐ), ৬. দিল মোহাম্মদ। (পিতাঃ ঐ), ৭. রুবি আকতার (পিতাঃ সরোয়ার), ৮. নজরুল ইসলাম (পিতাঃ প্রকাশ -খলিবা)  [সরোয়ারের জামাতা, ৯. নুরুল কবির বিলু (পিতাঃ আলি মিয়া), ১০. বাইল্যা (পিতাঃ আলি মিয়া), উক্ত অনিয়মের বিষয় নিয়ে মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্ররা হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির কাছে ঘটনার বিচার দাবি করে। এতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাড়া দিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার   নাজমুল স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসলে পূর্বের ন্যায় আবার সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার সময় উভয়পক্ষকে ১৪মে পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে উক্ত ঘটনার সমাধানের চেষ্টা করতে বলেন। তারপরের দিন  মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্ররা যথসময়ে উপস্থিত থাকার পর মৃত মঞ্জুলের ছেলেরা বিভিন্ন মাদক মামলার ফেরারি আসামি হওয়ায় মাত্র একজন বিচারকার্যে উপস্থিত হয় এবং একটা অযৌক্তিক অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে দুই দিনের সময় নেয়। পরবর্তীতে বিচারের দিন ধার্যকৃত সময় ১৬মে  মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্ররা উপস্থিত হলেও পুনরায় মৃত মঞ্জুলের ছেলেরা দায়িত্বরত পুলিশ অফিসারের নিকট ফোন করে ৫০বছর বয়সের এক বৃদ্ধ মহিলার ডেলিভারি সমস্যা বলে আরেকটি হাস্যকর অজুহাত দেখিয়ে সময় নেয়। সেখান থেকে চলে এসে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নিয়ে সরোয়ারের মেয়ের স্বামী(বহিরাগত) তৃতীয় দফায় আবার অতর্কিত হামলা চালায় এবং বাড়ির জানালায় ইট-পাথর ছুড়তে থাকে।।এমতাবস্থায় মৃত দুদু মিয়া সওদাগরের পুত্ররা দিনদিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এতকিছুর পরও তারা ক্ষান্ত হয় নি।একের পর এক অমানবিকতা করে চলেছে। গত ১৬-০৫-২০২০ইং তারিখের হামলার পর পুলিশের কাছে বিচার সোপর্দ করলে পুলিশ ঈদের পর এই বিচারকার্যের সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করে।বরাবরের মতই আইনের প্রতি আস্থা রেখে আমরা কোন ঝামেলায় জড়ায় নি। ০১-০৬-২০২০ইং তারিখে সকালবেলা হঠাৎ উক্ত জায়গার মালিক মীর আহমেদ সওদাগরের বড়পুত্র নুরুল হোসাইনকে চলার পথিমধ্যে একা পেয়ে আবুল মঞ্জুরের ৫ পুত্ররা তাদের মহিলাসহ প্রায় ২০জন মত লোক মারধর করে।এসময় তারা নুরুল হোসাইনকে খুব জটিলভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং সবাই মিলে সে একজনের উপর নির্মমভাবে ঝাপিয়ে পড়ে হামলা করে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করা চলবে না