শনিবার, ২৩ মে ২০২০, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ!

চট্টগ্রাম অফিসঃ দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম থেকেই চট্টগ্রামকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিলেন জেলা সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। প্রথম দিকে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক দেশের অন্যান্য জেলার থেকে কম হলেও হঠাৎ আক্রান্ত সংখ্যা বেড়েছে। চট্টগ্রামে প্রথম এক মাসে করোনা পজিটিভ ৮৯ জন হলেও গত ১০ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৪ জন।


চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে,জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৭৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে ৪০৩ জন ও উপজেলা শহরে ১৭০ জন করোনা পজিটিভ। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৪ জন এবং মারা গেছেন ৩০ জন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি  জানান,চট্টগ্রামে এখন তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজারে গড়ে প্রায় ৫০০-এর মতো করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

তবে কীভাবে আরো নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আমরা তদারকি বাড়াচ্ছি। চট্টগ্রামে আগে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর কিছুটা সংকট থাকলেও জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিআইটিআইডিতে এখনো নমুনা জমে থাকার কারণে অনেককেই আমরা দ্রুত তাদের ফলাফল দিতে পারছি না।

তিনি আরো জানান, ৩৯তম স্পেশাল বিসিএস থেকে ৭৩ জনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে।আশা করছি চট্টগ্রামে চিকিৎসক সংকট কিছুটা হলেও কমবে।তাছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল ও সিভাসুতে আরো পরীক্ষা বাড়াতে আমরা যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য জিনিস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। তবে সাধারণ মানুষকে বিনা প্রয়োজনে বের না হওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বিআইটিআইডিতে কেবল নভেল করোনাভাইরাসের সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সবশেষ তথ্যমতে, বিআইটিআইডিতে প্রায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি সন্দেহভাজনের নমুনা জমা আছে। চট্টগ্রাম ছাড়া নোয়াখালী, ফেনী ও নোয়াখালী জেলা থেকে নমুনা আসে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি,সিভাসু ও চট্টগ্রাম মেডিকেলে।

চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার নমুনা প্রতিদিন সব পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ার কারণে কিছু নমুনা জমে যাচ্ছে। এসব জমা থাকার কারণে অনেকে করোনাভাইরাসের নমুনার ফলাফল পাওয়ার আগে মারা গেছেন,এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে।

বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসান জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে লোকবল সংকট ছিল।তবে গত বুধবার ৩৯তম বিসিএস থেকে ২১ জনকে বিআইটিআইডিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আমরা আগের থেকে এখন গড়ে প্রায় ১০০টি বেশি নমুনা পরীক্ষা করছি। নমুনা পরীক্ষা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে যদি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়, তাহলে চট্টগ্রামের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে মনে করেন তিনি।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলো যদি করোনা চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালগুলোকে সাহায্যে করত, তাহলে চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার গতি বাড়ত।

তবে বর্তমানে চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাসেবাও সীমিত পর্যায়ে চলছে। ফলে অনেক সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করা চলবে না