সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

কাশ্মীরে বিক্ষোভের ঘটনা স্বীকার করল ভারত সরকার

কক্সবিডি নিউজ::

ভারতের সংবিধান থেকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘোষণায় কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নামে মানুষ।

কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেলেও ভারত সরকার তা অস্বীকার করেছিল।

বিবিসি বাংলা জানায়, এসব বিক্ষোভের খবর প্রাথমিকভাবে ভারত সরকার ‘অতিরঞ্জিত’ ও ‘ভুল’ বলে দাবি করলেও মঙ্গলবার এক টুইটে শ্রীনগরে হওয়া একটি বিক্ষোভের সত্যতা স্বীকার করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের করা এক টুইটে ৯ অগাস্ট শ্রীনগরের সাওরা অঞ্চলে হওয়া বিক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করা হলেও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কোনো গুলি ছোঁড়েনি বলে দাবি করা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপরে পেলেট গান ব্যবহার করেছে। এতে চোখ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী।

৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত রাজ্য ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। এর আগের দিন থেকে অঞ্চলটিতে ইতিহাসের কঠোরতম নিরাপত্তা পরিস্থিতি জারি করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনাসদস্য।

কারফিউ জারি করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সার্ভিসসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগও বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। গত ১০ দিন ধরে কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগের রাত থেকে ৪০০ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী।

দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এখনো কাশ্মীর রাস্তায়, অলিগলিতে অবস্থান করে আছে ৫০ হাজার সেনা।

কাশ্মীরকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ৯ আগস্ট শুক্রবার হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ প্রকাশ করার একটি ভিডিও ফুটেজ বিবিসি’র হাতে আসে, যেটিকে ভারত সরকার দাবি করে যে সেরকম কোনো বিক্ষোভ আসলে হয়নি।

১০ আগস্ট ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে টুইট করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওগুলোকে অতিরঞ্জিত বলা হলেও পরদিন আরেকটি টুইটে শ্রীনগরের সাওরা অঞ্চলে হওয়া বিক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

একইভাবে রয়টার্সের একটি খবরের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একটি টুইট করেন।

ওই টুইটে বলা হয়, “রয়টার্সের প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে ১০ হাজার মানুষ শ্রীনগরে বিক্ষোভ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং অতিরঞ্জিত খবর। শ্রীনগর ও বারামুলায় ছোট ছোট কিছু বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে কিন্তু কোথাও ২০ জনের বেশি মানুষ জড়ো হয়নি। ”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের নতুন টুইটটিতে বলা হয়, “গণমাধ্যম শ্রীনগরের সাওরা এলাকার খবর প্রকাশ করেছিল। ৯ আগস্ট স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে সাধারণ মানুষ যখন ঘরে ফিরছিল, তখন কিছু দুষ্কৃতকারী তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারে। ”

সোমবার ঈদের দিন বন্ধ রাখা হয় অধিকাংশ মসজিদ। ছোট ছোট কয়েকটি মসজিদ ছাড়াও কোথাও ঈদের জামাতের অনুমতি মেলেনি। হয়নি কোরবানি পশু বেচাকেনা। কোরবানি দিতে না পেরে আরও বেশি ক্ষুব্ধ কাশ্মীরিরা। ফলে ঈদের দিনেও রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। তাদের ওপরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে।

এ দিকে বুধবার ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দশদিন আগে কাশ্মীরের ওপর আরোপ করা ব্যাপক নিরাপত্তা কড়াকড়ি জম্মু থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে কাশ্মীর উপত্যকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই কড়াকড়ি আরোপিত থাকবে।

শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যটির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা মুনির খান কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

একই দিনে একটি ভারতীয় পত্রিকাকে কাশ্মীরের গভর্নর সত্যপাল মালিক জানান যে ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসের পর কাশ্মীরের ওপর চলমান ভারতীয় বাহিনীর নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করা চলবে না