সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

উখিয়ায় শতাধিক ইয়াবা কারবারি সক্রিয়

সিএন ডেস্ক।।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একের পর এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় এবং ১০২ জন চোরাকারবারির আত্মসমর্পণের পর টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার চালান আনাকে আর নিরাপদ মনে করছে না মাদক ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তারা বেছে নিয়েছে উখিয়ার দুর্গম সীমান্ত এলাকা। ইদানীং রাতের আঁধারে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে উখিয়া দিয়েই আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান। এরপর স্থানীয় দরিদ্র যুবকদের মাধ্যমে সেসব চালান পাঠানো হচ্ছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে।

জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার থাইংখালী, রহমতের বিল, পালংখালী, বালুখালী, তমব্রু এলাকা ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডেইলপাড়া ও ডিগলিয়াসহ কমপক্ষে ১০টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা প্রবেশ করছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবায় সয়লাব হয়ে গেছে উখিয়া। বর্তমানে উখিয়ার শতাধিক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে এ ব্যবসায়। একসময় দরিদ্র থাকলেও অল্পদিনেই তাদের অনেকে হয়ে উঠেছেন বিত্তশালী।

উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বেশ কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম। যাদের অনেকে একাধিক মামলার আসামিও। এরা হলেন- উখিয়ার জালিয়াপালং ডেইলপাড়ার ছবির আহমেদের ছেলে জসিম উদ্দিন, ফরিদ আলমের ছেলে জাফর আলম, মৃত গোড়া মিয়ার ছেলে আবদুর রহিম, শফিউল আলমের ছেলে ফজল কাদের, হাজীরপাড়ার মো. আলীর ছেলে আতাউল্লাহ ও মৃত দরবেশ আলী শিকদারের ছেলে গিয়াস উদ্দিন। খাড়াশিয়া হরিণমারা গ্রামের ফকির আহমেদের ছেলে নুরুল কবির, হিজুলিয়া বাবুল মিয়া ও তার ভাই দেলোয়ার হোসেন, মরিচা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন, ঝাউতলা সড়কের মফিজ ড্রাইভার, হলদিয়া ক্লাসপাড়া এলাকার আমীর হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন, নজীর আহমেদের আহমেদের ছেলে সুমন এবং সোনারপাড়া এলাকার আহমদ হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন। রুহুল্লা ডেবা এলাকার গফুর মিয়ার ছেলে সেলিম উদ্দিন ওরফে আপেল, লম্বাগুনার মৃত ফকির আহমেদের ছেলে শাহাবুদ্দিন, বালুখালীর জয়নাল,এনামুল, মৃত সুরত আলমের ছেলে শাহজাহান ও মৃত আবদুল বারীর ছেলে এনামুল হক। থাইনখালী রহমতের বিল এলাকার বদরউদ্দোজার ছেলে কলিমুল্লা লাদেন, মৃত ফরিদ আহমেদেরে ছেলে মো. সোহেল,জামাল,কামাল, আবু সিদ্দিকের ছেলে লাল পুতিয়া,কানা রসুর ছেলে আকতার,গজুগোনা এলাকার নূর আহমেদের ছেলে গোড়া মিয়া,থাইনখালী এলাকার আবুল আজিম প্রকাশ কানাইয়া, ফরিদ আলম প্রকাশ বেট্টাইয়া। টিএন্ডটি এলাকার হাজি আবদুল করিমের ছেলে হুমায়ুন,কুতুপালং এলাকার বুজুরুচ,আলী আকবর,মনির। উখিয়ার ঘাট এলাকার ছৈয়দ কাসেমের ছেলে আবুল হোসেন,মাহবু আলীর ছেলেভজসিম উদ্দিন। ডিগিলিয়া,ডেইলপাড়া এলাকার শাহাজান খলিবা, জসিম উদ্দিন, জাফর আলম, শামশুল আলম,রফিক আলম সহ শতাধিক ইয়াবা কারবারি ইয়াবা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারিদের সাথে সঙ্গে ওইসব ইয়াবা ব্যবসায়ীর যোগাযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছেন রেজিস্টার ক্যাম্পের সোলেমান। সে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও মিয়ানমারের এমপিটি সিমের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে রোহিঙ্গাদের রাতের আঁধারে মিয়ানমার পাঠিয়ে আনা হয় চালান। চালান পৌঁছানোর পর ১ লাখ ইয়াবার জন্য রোহিঙ্গাদের দেয়া হয় ৫ হাজার টাকা। পরে সেই ইয়াবা পাহাড়ি রাস্তা ও উপসড়ক দিয়ে পৌঁছানো হয় কক্সবাজারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা আসার আগে উখিয়াতে ইয়াবার চালান তেমন আসত না। কিন্তু ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের ঢল নামার পর কিছু কিছু চালান আসতে শুরু করে। সম্প্রতি টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তোড়জোড়ের কারণে উখিয়া দিয়ে ইয়াবার চোরাচালান অনেক বেড়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় গরিব ছেলেদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এ ব্যবসায় যুক্ত করছে কারবারিরা।

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে অর্ধশতাধিক ইয়াবা ডন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। তারাই ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পুরনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে আলোচনা করে চালান এনে তুলে দিচ্ছে স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে। আবার অনেকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রওনা দিয়ে ভোর হওয়ার আগেই মিয়ানমার থেকে চালান নিয়ে ফিরে আসছে বলে জানান তারা।

উখিয়া থানার নবাগত ওসি মো. আবুল মনসুর বলেন, আমি উখিয়ার এসেছি মুলত ইয়াবা নিমূর্লের জন্য,ইয়াবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করা হবে,ইয়াবা ব্যবসা করে কেউ পার পাবেনা। এজন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করা চলবে না