সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

উন্নয়নের প্রসব বেদনায় কাঁতরাচ্ছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক

রফিক উদ্দিন বাবুল,উখিয়া::

দশটন ওজনের যানবাহন চলাচল উপযোগী সড়কে ২৫/৩০ টন পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে জীর্ণশীর্ণ সড়কটির আরো করুণাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের টানা বর্ষণের কারণে। ৬ মাস আগে থেকে সড়কটি সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ধীর গতির কারণে দৃশ্যমান কাজ হয়নি। উপরোন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় অসংখ্য ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় উন্নয়নের প্রসব বেদনায় কাঁতরাচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়ক।

সরেজমিন মরিচ্যা, কোর্টবাজার, উখিয়া সদর, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী এলাকা ঘুরে দেখা যায় সড়কের অস্থিত্ব বলতে কিছুই নেই। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় গর্ত পানিতে লুকিয়ে পড়ার কারণে এসড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে চলাচলরত যাত্রীবাহি যানবাহন স্পেশাল সার্ভিসের চালক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরে গাড়ী চালনায় তীক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে যানবাহন নিয়ে কক্সবাজার টেকনাফ আসা যাওয়া করলেও অন্তুরে প্রচন্ড ভয়ভীতি কাজ করে থাকে। কেননা সড়কে যেসব গর্তগুলো হয়েছে সেগুলো পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। বোঝার কোন উপায় নাই সড়কে গর্ত আছে কিনা, তাই যাত্রীদের জীবন রক্ষার্থে খুব সাবধানতা অবলম্বণ করে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। ওই চালক অবিলম্বে সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

কোর্টবাজার-ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শাহজাহান সড়কের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তার সমিতির প্রায় শতাধিক ভারি যানবাহন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত যাতায়াত করে থাকে। সমিতির অধিকাংশ চালক ও মালিকের অভিযোগ কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে তাদের গাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ট্রাক-মালিক সমিতির ওই নেতা জানান, দেশের সর্বোত্তম জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির উপর নির্ভর করছে দেশের সর্বদক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন স্পটের ভাবমূর্তি। এসড়কে দেড় শতাধিক এনজিওর প্রায় ২ হাজারেরও অধিক যানবাহন চলাচল করছে। এসব যানবাহনের কারণে মহাসড়কে এ করুণ পরিণতি দাবী করে অবিলম্বে সড়ক মেরামতের জন্য এনজিও সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোরালো দাবী রেখেছেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা আসার পর থেকে এনজিওদের কার্যক্রম শুরু হয়। উখিয়া-টেকনাফে বসবাসরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা থাকা খাওয়াসহ আনুসাঙ্গিক ত্রাণ সহায়তা প্রদানে এ সড়ক ব্যবহার করেছে অসংখ্য যানবাহন। ফলে সংকোচিত ও ভারসাম্যহীন সড়কটি দিন দিন ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগ তা দেখেও না দেখার ভান করে থেকেছে। যে কারণে বর্তমানে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দাবী করে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সড়কটি জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের দাবী জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্যস্ততম এ সড়কটির দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন ৫০ কিলোমিটার সড়ককে ২টি প্যাকেজে ভাগ করেছে। তৎমধ্যে প্রথম প্যাকেজ ১শত ২২ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে টিসিসিএল এন্ড মেসার্স জামিল ইকবাল লিঃ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ২য় প্যাকেজ ১শত ৫৪ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাহের ব্রাদার্স লিঃ, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিঃ ও সালেহ আহমদ বাবুল নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। এসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে তাদের মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

তবে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, সড়কের উভয় দিকে ৩ ফুট করে ৬ ফুট এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪৫ ফুট সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্মাণ কাজের গুনগতমান ও টেকসই উন্নয়ন কাজের তদারকি করার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত উন্নয়ন কাজ তদারকি করবেন। যেহেতু কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের যে দুটি প্যাকেজে ৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের আওতায় আনা হয়েছে তা অতিসম্প্রতি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল বিধায় প্রথম ধাপে ৫০ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে সড়কের বাকী অংশগুলোর নির্মাণ ও সম্প্রসারণের আওতায় আনা হবে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, কক্সবাজার টেকনাফ সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য এডিবি ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়ক ছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও এলজিইডির আওতাধীন গ্রামীণ জনপদে সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যে কারণে এলাকার জনসাধারণকে যাতায়তের ক্ষেত্রে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করা চলবে না