সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

কক্সবিডি নিউজ::

শুরু হলো বঙ্গোপসাগরে মাছ ও ক্রাস্টেশান্স (শক্ত খোলসযুক্ত সামুদ্রিকা প্রাণি) আহরণের উপর দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। গতকাল ২০ মে সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। সকালে কক্সবাজার জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা শহরের নুনিয়াছড়াস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয় থেকে কর্মসূচি আরম্ভ করেন। এরপর নাজিরারটেকে চালানো হয় প্রচার অভিযান।
শুরুতেই মাছ আহরণের দায়ে কাউকে আটক কিংবা জরিমানা করা হয়নি। শুধুমাত্র সরকারের গেজেট বিলির পাশাপাশি হ্যান্ড মাইকের সাহায্যে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। কক্সবাজার শহরের পাশাপাশি গতকাল সকাল থেকেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে সোনাদিয়া, মহেশখালী এবং গোরকঘাটায় চালানো হয় সচেতনতামূলক প্রচার।
তবে, কর্মসূচি সফল করতে আগামি দিনগুলোতে নেয়া হবে কঠোর অবস্থান। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হবে কার্যকর ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নৌ-বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় মাঝ সাগরেও পরিচালনা করা হবে অভিযান। কক্সবাজার জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গতকাল ২০ মে থেকে জেলার ৮টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে ৮টি চেকপোস্ট। টেকনাফের শামলাপুর, রামুর পেঁচারদ্বীপ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়ার মগনামার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে এসব চেকপোস্ট। কোন ফিশিং ট্রলার যাতে সাগরে যাওয়ার পাশাপাশি মাছ কেনা-বেচা করতে না পারে সেজন্যই এসব চেকপোস্ট স্থাপন।
এদিকে, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গত ১২ মে জেলাপ্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় গ্রহণ করা হয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সভায় নিষেধাজ্ঞাকালীন পেট্রোল পাম্প ও বরফকল গুলোতে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাতে কোন ট্রলার তেল এবং বরফ নিয়ে সাগরে মাছ আহরণে যেতে না পারে। পাশাপাশি ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে নৌ-বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের পেট্রোলিং কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে দাবি করলেন কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. খালেকুজ্জামান। গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ব্যাপক প্রচারাভিযানের ফলে ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণরত ৯৮ ভাগ ট্রলার ঘাটে ফিরে এসেছে। আশাকরি বাকি ২ ভাগও ফিরে আসবে। বিদেশি ট্রলারের বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সত্য নয়। নৌ-বাহিনী আমাদের জানিয়েছে অভিযোগকারী ট্রলার মালিকদের কারো কাছেই কোন তথ্য নেই বাংলাদেশের নৌ-সীমানায় বিদেশী ট্রলার মাছ আহরণ করছে। ভূ-উপগ্রহেও (স্যাটেলাইট) বিষয়টি শনাক্ত করা যায়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com