বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ০৮:১১ অপরাহ্ন

পাচারকারীদের টার্গেটে রোহিঙ্গা নারীরা

সিএন প্রতিবেদক।।

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গা রমনীদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী সদস্যরা বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশে পাশে উৎপেতে অবস্থান করছে। তাদের আশ্রয় পশ্রয়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সহযোগীতা করছে রোহিঙ্গা দালাল চক্র। ইতি মধ্যেই পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে পালিয়ে যাওয়া ১৬ থেকে ২২ বছর বয়সী প্রায় আঠার জন রোহিঙ্গা রমনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা খেয়ে ক্যাম্পে ফিরেছে বলে পুলিশ ও ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে।
উখিয়া টেকনাফের সবচেয়ে পুরাতন ও বিশাল রোহিঙ্গা অধুষিত কুতুপালং ক্যাম্পের পরিচিত বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে আলাপচারীতায় উঠে এসেছে ২০১২ সালে মিয়ানমার থেকে সাগর পথে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মালোশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে মালোশিয়া পৌছতে সক্ষম হলেও বেশির ভাগ লোকজনের এ পর্যন্ত কোন হদিস পাওয়া যায়নি। কুতুপালং ক্যাম্প ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সেক্রেটারী মো: নুর জানায় তারা ২০১২ সালে এক সাথে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের নাফ নদী পার হয়ে কুতুপালং রেজিস্ট্রাট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। সে জানায় তাদের ক্যাম্প থেকে কোন রোহিঙ্গা নারী এ পর্যন্ত পাচার হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৭ সালে ২৫শে আগস্টের পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা উখিয়া টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে ঐসব রোহিঙ্গা পরিবারের যুবতী মেয়েরা বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে লোকমুখে শুনেছেন। তার এক নিকটাত্বীয় মো: সেলিম জানায় মালোশিয়ায় যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করে আরাম আয়েশে দিন যাপন করছে তাদের আমন্ত্রনে রোহিঙ্গা যুবতী নারীদের সরবরাহ করছে বিয়ের জন্য।
রেজিস্ট্রাট শরনার্থী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদ বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা নেতার উদৃতি দিয়ে জানান, মালোশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গারা হুন্ডির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা পাঠাচ্ছে। আর এ টাকা সরাসরি চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা দালালের হাতে। পরে রোহিঙ্গা দালাল ও পাচারকারী চক্র আগে থেকে টার্গেট করা সুন্দরী রমনীদের অভিনব কায়দায় ক্যাম্প থেকে বের করে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এসব রমনীদের ভেজাল পার্সপোট তৈরি করতে গিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসব রোহিঙ্গা রমনীরা ধরা পড়লেও পাচারকারী চক্ররা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাহিরে। উখিয়া থানা ওসি তদন্ত নুরুল ইসলাম মজুমদার এ পর্যন্ত প্রায় ১৭/১৮ জন রোহিঙ্গা নারী দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ক্যাম্পে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন শুক্রবার সাতক্ষীরা থেকে আরও চার জন রোহিঙ্গা নারী ফিরে আসার কথা রয়েছে। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মো: রেজাউল করিম জানান, দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে রোহিঙ্গা মেয়েরা সর্বশান্ত হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ক্যাম্পে ফিরে আসতে দেখা যায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com