বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:২১ অপরাহ্ন

কলেজছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় শিক্ষক

ad

সিএন ডেস্ক।।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আমড়াগাছিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন ঝাঁড়ু হাতে নিয়ে আমড়াগাছিয়া বাজারের সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে ওই শিক্ষকের বহিষ্কার দাবি করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি তুলে নেয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহফুজুর রহমান প্রিন্স নামের ওই শিক্ষক উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক।গত সোমবার দুপুরে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন প্রিন্স। একই গ্রামের রাসেল খানের বাড়ি থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে ধরে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক প্রিন্সকে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে কলেজছাত্রীসহ তাকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মেয়ে পক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকায় পরে প্রিন্সকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

কিন্তু এ ঘটনার পর প্রিন্সের স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, চরিত্রহীন কোনো ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারে না। এ কারণে ঘটনার পরের দিন সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। ওই শিক্ষকের বহিষ্কারসহ সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান তারা।

ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স একজন চরিত্রহীন লোক। তার কাছে কেউ নিরাপদ নয়। তার মতো শিক্ষক থাকলে বিদ্যালযের পরিবেশ নষ্ট হবে। তার এমন কর্মাকাণ্ডের বিচার ও স্থায়ী বহিষ্কারে দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষক প্রিন্সের স্ত্রী-সন্তান থাকতেও এভাবে একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে পার পেয়ে যাওয়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের চিন্তায় থাকতে হয়। তার মতো চরিত্রহীন শিক্ষক এই বিদ্যালয়ে থাকলে আমরা মেয়েদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাব। আমি তার বিচার দাবি করি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সরোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সহিদ হোসেন বাবুল বলেন, ‘মাহফুজুর রহমান প্রিন্সকে একই অভিযোগে এর আগে আরও দুইবার বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু, পরবর্তীতে অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করায় সে আবার পুনর্বহাল হয়। তার বিরুদ্ধে শক্ত কোনো অভিযোগকারী না পাওয়ায় সে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। এবার তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘আন্দোলকারীদের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে তার কর্মসূচী প্রত্যাহার করে। গত সোমবার দুপুরে শিক্ষককে মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। কিন্তু কেউ অভিযোগ না করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ শতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।’

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স জানান, ওই কলেজছাত্রী তার বিবাহিত স্ত্রী। কিছুদিন আগে তারা কালিমা পড়ে বিয়ে করেছেন। তিনি তার এই দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে একটি ঘরে অবস্থান করছিছেন। এ সময় তার শত্রুপক্ষ তার ওপর অহেতুক হামলা চালায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com