বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ আইসিসির

ad

সিএন ডেস্ক।।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও বিতাড়িত করার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রস্তুতি শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। এর অংশ হিসেবে আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল তাদের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে।

প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। সরকারের বিভিন্ন দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছে এমন এনজিও এবং মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গেও তারা কথা বলেছেন।

প্রতিনিধি দলটি এখন ফিরে গিয়ে আইসিসিতে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এ প্রতিবেদনের ওপর শুনানির পর রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং বিতাড়নের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আইসিসি প্রতিনিধি দলটি ৬ মার্চ থেকে ১১ মার্চ রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।

এ বিষয়ে সোমবার রাতে রাজধানীর হোটেল কন্টিনেন্টালে এক সংবাদ সম্মেলনে আইসিসির কমপ্লিমেন্টারিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ডিভিশনের হেড অব জুরিসডিকশন ফাকিসো মোকোচোকো এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিনিধি দলটি আজ বাংলাদেশ ত্যাগ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফাকিসো মোকোচোকো বলেন, আমরা জাতিসংঘের সদস্য দেশের বিভিন্ন কূটনীতিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিস বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শক করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে এবং তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি।

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে জানিয়ে ফাকিসো মোকোচোকো বলেন, আমরা সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে আইসিসিতে জমা দেব। তবে এটাকে আমরা কোনো অনুসন্ধান বলব না। প্রতিনিধি দল কোনো প্রমাণ সংগ্রহ করেনি। এটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর আগে একটি প্রক্রিয়া। রোহিঙ্গা গণহত্যার পেছনে মিয়ানমার রাষ্ট্রের মদদ ছিল। এ গণহত্যায় মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে কিনা জানতে চাইলে ফাকিসো মোকোচোকো সাংবাদিকদের বলেন, আইসিসি স্বতন্ত্র অপরাধের তদন্ত করে।

রোহিঙ্গা গণহত্যায় যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের দায়ী করা হবে। রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারকে নয় বরং যিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, যারা এর পেছনে দায়ী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে।

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) সাধারণত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের অভিযুক্ত করে থাকে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com