শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

উখিয়ার শতাধিক ইয়াবা গডফাদার এখনো অধরা

সিএন প্রতিবেদক::

মাদক বিরোধী অভিযানের মাঝেও কক্সবাজারের উখিয়ার শতাধিক ইয়াবা গডফাদার ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে । চিন্থিত গডফাদার ছাড়াও ইয়াবা পাচারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায় ,একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আবারো দেশব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিহত, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্ত উখিয়ায় শুধুমাত্র বালুখালি গ্রামের ইয়াবা গডফাদার জাহাঙ্গীর ছাড়া আর কোন গডফাদার গ্রেফতার হয়নি। এদিকে মাদক বিরোধী অভিযানের মাঝেই সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলায় শুরু হয়েছে আত্মসমর্পণের তোড়জোড়। ফেব্রুয়ারি মাসের যেকোনো দিন এসব ইয়াবা গডফাদারদের আত্মসমর্পণের কথা রয়েছে সরকারের নিকট। টেকনাফ উপজেলা এতসব হলেও পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলায় এর ছায়া পড়েনি।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে,উখিয়া উপজেলায় প্রায় শতাধিক ইয়াবা গডফাদার রয়েছে। যাদের মধ্যে উখিয়ার শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার কবির আহমদ, কুতুপালং এলাকার জানে আলম, আলী আকবর,রহমত উল্লাহ কালু, আব্দুর রহিম,রোহিঙ্গা সোলায়মান,থাইনখালী রহমতের বিল গ্রামের কলিমুল্লা লাদেন, আক্তার,জামাল,কামাল,সোহেল,উখিয়ার হাজীর পাড়া গ্রামের আতাউল্লাহ,মির আহামদ,হিজলিয়ার আর মোস্তাক,দেলোয়ার, বালুখালী গ্রামের এনাম, জয়নাল অন্যতম।

উখিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাত্র একজন চিস্থিত ইয়াবা গডফাদার ছাড়া প্রয়োগকারী সংস্থা চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারীদের আটক করতে ব্যর্থ হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি, বাড়ি, সহায়-সম্পত্তি বহাল তবিয়তে রয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীও নিজ নিজ অবস্থানে নিরাপদে অবস্থান করছে।

সরেজমিনে পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী, তাজনিমারখোলা, রহমতেরবিল, ধামনখালী, আঞ্জুমানপাড়া, বালুখালী পানবাজার, কুতুপালং, উখিয়া সদর, দরগাহ বিল, মৌলভীপাড়া, হাজিরপাড়া, কোটবাজার, খোন্দকারপাড়া, সোনারপাড়া, মরিচ্যাসহ বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ মাদক ব্যবসায়ী অধ্যুষিত জনপদ ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের সম্পর্কে নানা তথ্য জানা গেছে।

কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক উখিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাফর আলম চৌধুরী বলেন, কতিপয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের সঙ্গে ইয়াবা সিন্ডিকেটের আঁতাত রয়েছে। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযানে উখিয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ী ধরা পড়েনি। এসব ইয়াবা কারবারি খুবই শক্তিশালী। তাদের রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

রাজাপালং ইউনিয়নের জাদিমুরা ঘুরে স্থানীয় কয়েক গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময়ের দরিদ্র কবির আহমদের বহুতল ভবনের মালিক।মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার আতঙ্কে কয়েকদিন আগে সে গা-ঢাকা দিয়েছে।

বালুখালী গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরাজুল হক, পেশাদার কৃষক নিয়ামত আলী, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী গফুর উল্লাহ দাবি করেন, উখিয়ার আনাচে-কানাচে গত পাঁচ বছরে যেসব বহুতল ভবন, আলিশান ইমারত ও বহুমুখী ডিজাইনের ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হলে ইয়াবা বিস্তারের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে প্রতিদিন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ইয়াবা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: কপি করা চলবে না