বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৫:০৩ অপরাহ্ন

পিকনিকের বাসে মিলল আড়াই লাখ ইয়াবা

ad

সিএন ডেস্ক।।

যশোরের পীরগাছা থেকে ৪০ যাত্রী পিকনিকের নামে আনন্দ ভ্রমণে যান টেকনাফ। জনপ্রতি মাত্র দেড় হাজার টাকায় গত মঙ্গলবার থেকে তিন দিন কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ করে দেয় নিউ ক্লাসিক পরিবহন। সেই পরিবহনেই পাওয়া গেল ২ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা। আটক করা হয় ছয়জনকে। নামমাত্র টাকায় আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করা বাস মালিক আতিয়ার রহমানই ওই ইয়াবার চালান যশোরে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে ৪০ যাত্রীর মধ্যে সন্দেহজনক ছয়জনকে আটক করা হয়। বাকি যাত্রীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নিউ ক্লাসিক পরিবহনটির মালিক মো. আতিয়ার রহমান (৫৫), বাসটির চালক মো. জুয়েল (৩৯), চালকের সহকারী আমিনুর রহমান সুমন (২৩), বাসের মালিক আতিয়ারের সহযোগী মাসুদ রানা (৩১), ইকবাল হোসেন (৩৭) ও মো. বাবলু (৪৭)। আনন্দ ভ্রমণের মূল আয়োজক ছিলেন বাসটির মালিক আতিয়ার রহমান।

বাসের যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন রনি আমাদের সময়কে বলেন, এত কম টাকায় কীভাবে তিনি কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছেন তার হিসাব মেলাতে পারেননি অনেক যাত্রী। আমরা বাস মালিককে প্রশ্ন করছিলাম, এত কম খরচে ব্যয়বহুল আয়োজন কীভাবে সম্ভব? তখন ক্লাসিক পরিবহনের বাসটির মালিক আতিয়ার রহমান বলেছিলেন, তিনি নতুন বাস কিনেছে তাই খুশিতে সবাইকে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন ট্যুরে নিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া ভ্রমণে যাওয়া বাসটির সব যাত্রীই কমবেশি একে-অপরের পরিচিত ও স্বজন বলে জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের আনন্দ ভ্রমণ শেষে যশোরের উদ্দেশে ফেরার সময় র‌্যাবের একটি দল ভ্রমণপিপাসুদের মনে জমে থাকা কৌতূহলের জট খোলেন। ইয়াবাসহ ছয়জনকে আটকের পর গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলেই সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের সহকারী পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়েত জামিল ফাহিম। উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব ৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান।

মেজর মেহেদী হাসান বলেন, সোর্সের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে শনিবার ভোরে নগরীর কর্ণফুলী থানার শাহ আমানত সেতুর ওপরে চেকপোস্টে ওই বাসটিকে থামানো হয়। এর পর সেখানে তল্লাশি করে ২ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে বাসে থাকা ৪০ জনের মধ্যে ইয়াবা বহনের বিষয়টি সবাই জানতেন না। গাড়ির মালিক আতিয়ারসহ ছয়জনকে ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে তাদের আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হবে।

র‌্যাবের স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়েত জামিল ফাহিম বলেন, আতিয়ার রহমান বাসটির মালিক এবং তার উদ্যোগে আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। মূলত পিকনিকের আড়ালে ইয়াবা কারবারের লক্ষ্যে বাসটি ক্রয় এবং স্বল্প খরচে পিকনিকের আয়োজন করে আতিয়ার। তার উদ্দেশ্য ছিল ভ্রমণকারীরা কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে সুবিধাজনক স্পট থেকে ইয়াবার প্যাকেট সংগ্রহ করা। সেই প্যাকেট যাত্রীদের ব্যাগে কৌশলে রেখে যশোর নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, আতিয়ার তার ক্রয় করা বাসে ৪০ যাত্রী নিয়ে গত মঙ্গলবার যশোরের পীরগাছা থেকে টেকনাফ পিকনিকে পাঠায়। আতিয়ার যশোর থেকে বিমানে করে কক্সবাজারে যান। পরে বাসে থাকা ভ্রমণপিপাসুদের সঙ্গে যুক্ত হন। আরোহীরা সেন্টমার্টিন হয়ে কক্সবাজার আসার পথে যাত্রীদের কাপড়ের ব্যাগের ভেতরে কৌশলে ১০ হাজার ইয়াবার ২৪টি প্যাকেট তুলে দেন। ইয়াবার অন্য প্যাকেটগুলো গাড়ির বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। বাসযাত্রীরা সবাই যশোর, রাজশাহী ও সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। ২০১৯ সালে আটক ও উদ্ধার ইয়াবার মধ্যে এটিই ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান বলে জানান শাফায়েত জামিল ফাহিম।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com