মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ad

সিএন ডেস্ক।।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে তিন যুবককে অপহরণ করে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির সত্যতা পাওয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া যুবকদের মনে এখনো আতঙ্ক থাকলেও তারা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের প্রতি। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বিকালে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন পুলিশ সুপার। ভিকটিমরা সাদা পোশাকের পুলিশ চক্রের হাতে অপহরণের ফাঁদ থেকে বেঁচে যাওয়ার কাহিনী বর্ণনা করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর
এলাকায় অপহরণের অভিযোগে কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলায় দুই পুলিশ সদস্য ছাড়াও অজ্ঞাত ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক তাদের ছাড় দেয়া হবে না, বলে হুঁশিয়ারি দেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।

উদ্ধার হওয়া তিন যুবক বলছেন, অপরহরণের পর ওই দুই পুলিশ সদস্য তাদের ক্রস ফায়ারের হুমকি দেন। গত বুধবার বিকাল ৫টার দিকে রায়হান সরকার, লাবিব উদ্দিন, নওশাদ ইসলাম, তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তারা গাড়িতে সিএনজি নেয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশনে যান। গ্যাস নেয়ার সময় তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান গাড়ি থেকে নেমে পাশের দোকানে চা খেতে যান।

গ্যাস নিয়ে তাদের গাড়িটি ফিলিং স্টেশন থেকে একটু এগিয়ে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকে কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানসহ ৩-৪ জন লোক একটি হাইচ মডেলের মাইক্রোবাস নিয়ে ওই যুবকদের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে গাড়ি থেকে রায়হান মিয়া, লাবিব উদ্দিন ও নওশাদ ইসলামকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এ সময় চা খেতে যাওয়া বাকি দুই বন্ধু রক্ষা পায়। পরে ওই তিন বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার দেওড়া নির্মাণাধীন উড়াল সড়কের নিচে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিন বন্ধুকে মুক্তি দেয়ার শর্তে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়। পরে বেশ কিছু সময় তাদের সঙ্গে টাকা নিয়ে দেন-দরবার হয়। একপর্যায়ে ওই দুই এএসআই তাদের জানায় ১০ লাখ টাকা দিলেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।

এরই মধ্যে তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান মোবাইল ফেনে তাদের পরিবার ও পুলিশকে অবহিত করে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরে দুই থানার সহযোগিতায় তাদের ওইদিন রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর থানায় এবং পরে রাত ১২টার দিকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে আসা হয়। অপহরণ ও মুক্তিপণের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য। তবে, একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল কালিয়াকৈর থানার এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তাদের নামে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামুন ও মুসফিকুর রহমান একসময় গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিবিতে দায়িত্ব পালনের সময় তারা নিরীহ মানুষদের ধরে নিয়ে টাকা আদায় করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com