বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ২০ রোহিঙ্গা আটক, উখিয়া থানায় মামলা

ad

নিজস্ব প্রতিবেদক,সিএন।।

সাগরপথে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গারা। মুঠোফোনে যোগাযোগ, নির্ধারিত বিকাশে টাকা পরিশোধের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট দালালের হেফাজতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু রোহিঙ্গা পাচার হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার আরো একটি ফিশিংবোটে প্রায় শতাধিক অবৈধ মালয়েশিয়াগামী পাড়ি জমাতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন খবরের ভিত্তিতে উখিয়া থানা পুলিশের একটি দল উখিয়ার উপকূলীয় এলাকার মানব পাচারের নিরাপদ রুট ডেইলপাড়া গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে আব্দুল কাদেরের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ২০জন মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে।
আটককৃতরা হচ্ছে, বালুখালী ক্যাম্পের হামিদা বেগম (২০), তার মেয়ে শউকত আরা (৫), থাইংখালী ক্যাম্পের জুবাইদা (২৫) তার মেয়ে রেনেছা (৫), একই ক্যাম্পের হামিদা বেগম (২০), কুতুপালং ক্যাম্পের তাহমিনা বেগম (১৮), বালুখালী ক্যাম্পের শারমিন আকতার (১৬), কুতুপালং ক্যাম্পের ইয়াছমিন আকতার (১৮), তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের মোঃ আমিন (২০), বালুখালী ক্যাম্পের ফয়েজুল ইসলাম (১৫), তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের নুর কামাল (২৪), বালুখালী ক্যাম্পের মোঃ ইউনুছ (১৯), তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের শফি আলম (২৫), বালুখালী ক্যাম্পের হেদায়েত উল্লাহ (১৫), কুতুপালং ক্যাম্পের ছলিমুল্লাহ (১৯), ইমাম হোসেন (২০), জাহিদ উল্লাহ (২৮), ছানা উল্লাহ (২০), লম্বাশিয়া ক্যাম্পের মোঃ আমিন (২০) ও বান্দরবান লামা দোলহাজারা গ্রামের আব্দুর রহিম (২০)।
আটককৃত কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‌’২০১২ সালের দিকে তাদের নিকট আত্মীয়রা সাগরপথে মালয়েশিয়া চলে গেছে। বর্তমানে তারা সেখানে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কাজে নিয়োজিত। বাসাভাড়া নিয়ে তারা সুখে জীবন যাপন করছে। তারা মুঠোফোনে বারবার তাগিদ দেওয়ার কারণে বিকাশে টাকার লেনদেন করে ডেইলপাড়া গ্রামের লেং শামশুর ছেলে দালাল শাহজান, হিজোলীয়া গ্রামের জলু আহম্মদের ছেলে নুরুল্লার মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য আব্দুল কাদেরের বাড়িতে ৪/৫ দিন ধরে অবস্থান করছে।’
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, ‌’এ ঘটনায় শাহজান ও নুরুল্লাসহ ৮ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে উখিয়া থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। যার নং-৯, তারিখঃ ৮/২/২০১৯।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সীমান্তের নাফনদী পার হয়ে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা কুতুপালং বনভূমির জায়গায় ঝুপড়ি বেধে আশ্রয় নেয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন পুলিশ বিজিবি ও বনকর্মীরা শত চেষ্টা করেও এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি। এমতাবস্থায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফজলুল বারী অনুপ্রবেশকারী এসব রোহিঙ্গাদের কোন প্রকার সহায়তা প্রদান না করার জন্য সকল এনজিও প্রতিষ্টানকে নির্দেশ দেন।
এসব রোহিঙ্গা বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে উখিয়ার উপকুলীয় এলাকার সোনাইছড়ি বাদামতলীর, ঘাটঘর, রেজু মোহনা, ঘোয়ালিয়া, ছেপটখালী, মনখালীসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ফিশিংবোটে করে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় অনিশ্চিত যাত্রা শুরু করে। জালিয়াপালং ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক দালাল চক্র এসব রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে সহযোগিতা করে। যার ফলে মানব পাচারের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে।
২০১৪ সালে রোহিঙ্গা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সোনার হরিণ ধরার আশায় মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকূলে ভিড় জমাতে শুরু করে। উখিয়া উপজেলা মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ মানব পাচার প্রতিরোধে উপকূলীয় এলাকায় ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। তারা মানব পাচার প্রতিরোধে বাধা দিলে তৎকালীন মানব পাচারের অন্যতম হোতা সোনারপাড়া গ্রামের নুরুল কবিরের স্ত্রী রেবী ম্যাডাম তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে দিয়ে আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে একটি নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনা নিয়ে মানব পাচার প্রতিরোধে মানব বন্ধন, সভা সমাবেশ ও আইনশৃংলাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ভিত্তিতে মানব পাচার বন্ধ হয়ে যায়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com