রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

আত্মসমর্পনে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ হলে আমিও খুশি হবো

ad

মোহসীন-উল হাকিম।

আরো দেখুন:মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। কারা মাদক দেশে নিয়ে আসছে, কারা ব্যবসা করছে এবং কারা সেবন করছে—এদের সবার বিরুদ্ধেই বহুমুখী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘যারা মাদকটা সেবন করে, তাকেই নয়, যারা মাদকটা আনে, দেয় বা সাপ্লাই দেয়, তৈরি করে, তাদেরও ধরতে হবে। সেই সঙ্গে যারা সুস্থভাবে সমাজে ফিরতে চাইবে, তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে… প্রধানমন্ত্রী (বাসস এর বরাত দিয়ে প্রথম আলো’র সংবাদ)

গত ২১ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদশর্নে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এর আগেই বলেছিলেন, আভিযানিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আত্মসমর্পনের মাধ্যমে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছে।

সেদিনের সেই সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে ভেতরে একমাত্র সাংবাদিক ছিলাম আমি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেদিন সুস্পষ্ট ভাবে বলেছিলেন, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করতে হবে। অবশ্য, বৈঠকের পরবর্তী অংশে এবিষয়ে কিছু বলে থাকলে তা আমার জানা নাই। তবে যে বক্তব্যের সূত্র ধরে বলা হচ্ছে, মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পনের সুযোগ দেওয়ার কথা তিনি বলেছেন, তা আমি সেদিন নিজের কানে শুনিনি। সেভাবে কথাটি তিনি বলেননি বলেই মনে হয়। তিনি বলেছেন, মাদকাসক্তদের সুযোগ দেওয়ার কথা, তাদের পুনর্বাসনের কথা। অবশ্য চোরাকারবারীদের কথা সেখানে না বললে যে ইয়াবা চোরাচালানকারীদের আত্মসমর্পন হবে না, তাও নয়। সেটা হতেই পারে।

সমাজ অপরাধমুক্ত হলে তা সবার জন্যই ভাল। সেটি অাভিযানিক কর্মকান্ড বা আত্মসমর্পন, যেকোনো ভাবেই হতে পারে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে যদি ইয়াবার চোরাচালান বন্ধ হয়, তবে সবার মত আমিও ভীষণ খুশি হবো। তবে মনে রাখতে হবে, আত্মসমর্পনের মাধ্যমে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন আর ইয়াবামুক্ত বাংলাদেশ এক কথা নয়।

(মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর পরই টেকনাফের ইয়াবা চোরাচালানকারীদের বেশ কয়েকজন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ছোটভাই Imrul Kayes আর আমি মিলে তাদের ফিরিয়ে দেই। নানা কারণে, এবিষয়ে নিজেদের জড়াইনি। আর গত একযুগ ধরে টেকনাফ সীমান্তে কাজ করলেও ইয়াবা নিয়ে কোনো নিউজও আমি করিনি। করিনি, কারণ আমি জানি এনিয়ে কাজ করে আমি শেষ প্রান্তে পৌছুতে পারবো না। বরং অনাকাঙ্খিত অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে আত্মসমর্পনের কাজটি এগিয়ে নিতে আমরা চাইনি কিছুতেই…. )

মনে রাখতে হবে, মরণ নেশা ইয়াবার বিরুদ্ধে এতো শক্ত অভিযান এর আগে কিন্তু হয়নি। এই অভিযান হওয়া উচিৎ ছিলো আরও দেড়যুগ আগেই। তাহলে এই মাদকটির ভয়াবহ বিস্তার হয়তো থামিয়ে দেওয়া যেতো। হয়নি, থামানো যায়নি ইয়াবা। তার খেসারত দিতে হচ্ছে, হবে আমাদেরকেই। একটি প্রজন্ম শেষ হয়ে গেছে এই মরণ নেশায়। সেই প্রজন্ম ধ্বংসকারীদের কী ভাবে দমন করবেন সংশ্লিষ্টরা, তা একটু ভেবে দেখা প্রয়োজন। আরও একটি প্রজন্ম ধ্বংস হওয়ার আগেই নিতে হবে সে সিদ্ধান্ত।

যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মোহসীন-উল হাকিমের ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com