মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছেন আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা

ad

সিএন।।

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে এমন ভয়ে আতঙ্কিত ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা। এ ভয়ে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে। এরই মধ্যে কয়েক দিনে কয়েক ডজন রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। গত সপ্তাহে ৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে ভারত। এভাবে জোর করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। তারা অভিযোগ করছে, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহতার মধ্যে ফেরত পাঠিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অমর্যাদা করছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এতে বলা হয়, মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের যেসব সদস্য ভারতে অবস্থান করছেন তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত জোরালোভাবে জানিয়েছে ভারত।

এরই মধ্যে দু’দফায় জোর করে কিছু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের হাতে তুলে দিয়েছে ভারত। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন মিয়ানমারে রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেখানকার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে এবং তা অব্যাহত আছে- এমন রিপোর্ট করা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের হাতেই তুলে দিচ্ছে ভারত।
এএফপি আরো লিখেছে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় ভারত। তারা ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার করেছে ২৩০ রোহিঙ্গাকে। সেখানে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা এসব রোহিঙ্গাকে সদলবলে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী কর্মকর্তারা ও পুলিশ বলেছে, গত সপ্তাহে ভারত থেকে পালিয়ে আসা কয়েক ডজন রোহিঙ্গাকে আটক করেছেন তারা। তাদের বাংলাদেশের দক্ষিণে শরণার্থীদের শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওই শিবিরগুলোতে কঠিন জীবনযাপন করছে বাস্তুচ্যুত ও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছে, ভারতে যেভাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে তার জন্যই ভারত থেকে এভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন।
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ব্রাহ্মণপাড়ার পুলিশ প্রধান শাহজাহান কবির আটক রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভারত যখন আটক করা শুরু করে এবং তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে থাকে তখন থেকেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিনি বলেছেন, গত বৃহস্পতিবারেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর আটক করা হয়েছে ১৭ রোহিঙ্গাকে। তাদের সীমান্তের ৩১টি পয়েন্ট থেকে আটক করা হয়। এদের বেশির ভাগই ভারতে বসবাস করছিলেন ৬ বছর ধরে। ওদিকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের শিবিরে ঠাসাঠাসি অবস্থা। সেখানে ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্টের পর আশ্রয় নিয়েছেন কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা। সেখানকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, এরপরও গত কয়েকদিনে এসেছেন কমপক্ষে ৫৭ জন রোহিঙ্গা। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের প্রশাসক রেজাউল করিম সর্বশেষ যাওয়া রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে বলেন, তারা এসেছেন হায়দরাবাদ, জম্মু-কাশ্মীরের মতো এলাকা থেকে। উল্লেখ্য, হায়দরাবাদ হলো ভারতের দক্ষিণের বড় শহর। আর জম্মু-কাশ্মীর হলো ভারত নিয়ন্ত্রিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা।
দশকের পর দশক মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার। এমনকি তাদেরকে নাগরিকত্ব পর্যন্ত দেয় নি সরকার। ফলে তারা রাষ্ট্রীয় যেকোনো সেবা থেকে বঞ্চিত। তাদেরকে মিয়ানমার দেখে থাকে ‘বাঙালি’ হিসেবে। তারা মনে করে, এরা অবৈধ অভিবাসী। তাদের বসবাস মিয়ানমারের রাখাইনে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com