রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

তফসিলের পর ঐক্যফ্রন্টকে মাঠেই নামতে দেয়নি

সিএন।।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে প্রতীক বরাদ্দের পরও ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে নামতে দেয়নি ক্ষমতাসীনরা। সেনাবাহিনী নামার পর পরিবেশের উন্নতি হবে বলে মনে করেছিল গণফোরাম। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতিসহ নানান অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানায় গণফোরাম।

শনিবার দিনভর বৈঠক শেষে বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। গণফোরাম সভাপতি বলেন, তার দলের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথ নেয়ার বিষয়ে তারা ইতিবাচক। একাদশ জাতীয় সংসদে গণফোরামের দুই বিজয়ী প্রার্থী শপথ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন ড. কামাল হোসেন। তোপখানা রোডের শিশুকল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে তিনি বলেন, দলের দু’জন প্রার্থী নির্বাচনে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা তাদের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দুঃখ লাগে, বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন খেয়াল-খুশির ব্যাপার নয়। সংবিধানের তো একটা কর্তব্য রয়েছে। আমরা চেয়েছি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যেখানে জনগণের মালিকানা থাকবে। তারা মালিক হিসেবে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। খুবই দুঃখজনক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে আঘাত দেয়া হয়েছে। আর নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে সেখানে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র থাকে না। এটা সংবিধানের ওপর আঘাত দেয়া।’

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বিএনপি যেহেতু শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের প্রতীকে ভোট করে গণফোরাম সদস্য শপথ নিলে তা দুই দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করবে কিনা? জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় না।’

শপথ নেয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা এটা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। সিদ্ধান্তের বিষয় আছে। আমার নিজের ধারণা আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তই নেব। আমরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি। কিন্তু আমাদের প্রার্থীরা তো বিরোধী দল থেকে বিজয়ী হয়েছেন। আমরা বলেছি, এটা তাদের অর্জন। তারা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নির্বাচিত হওয়ার জন্য আমরা তাদের অভিনন্দন জানিয়েছি। অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হবে বলে আমি মনে করি। কারণ জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমি কাজ করে আসছি এবং করছি। নীতিগতভাবে আমি মনে করি, ঐক্যকে রাখার জন্য আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেব। এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি বলেন, আন্দোলন তো করেই যাচ্ছি। জনমত গঠন করাও আন্দোলন। আলোচনা করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করাও আন্দোলনের অংশ। আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে এবং আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে।’ জামায়াতের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. কামাল বলেন, ‘জামায়াত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নেই। জামায়াত ২০ দলীয় জোটে আছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি কার্যকরভাবে কাজ করে তাহলে সরকারের ওপরে চাপ থাকবে আইন মেনে দায়িত্ব পালন করার। আর সরকারের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের এই ঐক্যের চাপ কাজে লেগেছে। আরও লাগবে বলে আশা করি।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গণফোরাম বলেছে, এতে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার ধর্ষিত হয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট সাত আসনে জয় পায়। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরাম জয় পায় দুই আসনে। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ এবং গণফোরামের নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে মোকাব্বির খান নির্বাচিত হন।

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলটির পাঁচজন নির্বাচিত হন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে ভোট প্রত্যাখ্যান করলেও বিএনপির পাঁচজনকে রেখেই গণফোরামের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য শপথ নেয়ার কথা ভাবছেন। বিএনপি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে গণফোরাম তাদের রেখেই সংসদে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম নেতাদের মতে, সংসদের বাইরে শুধু নয়, সংসদের ভেতরে থেকেও সরকারের সমালোচনা করা প্রয়োজন। এই যুক্তিতে শপথ নিতে চান তারা। এর আগে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে শনিবার দিনভর দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. কামাল হোসেন। গণফোরাম থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে জয়ী হয়েছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ডাকসু সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ। সিলেট-২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে জয়ী গণফোরামের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুকাব্বির খান দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে ভোট করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com