বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

খালেদার মুক্তি ছাড়া তফসিল গ্রহণযোগ্য নয়

ad

সিএন ডেস্ক।।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া এবং ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি না মানলে কোনো তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ঘোষিত তফসিল কার্যকর করতে হলে রাজনৈতিক বন্দিদের মামলা তুলে নিয়ে মুক্তি দিতে হবে। নইলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার আদায় করে ছাড়বে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে আবারো তাকে কারাগারে পাঠাতে হয়েছে। তিনি এখনও গুরুতর অসুস্থ। ছোট্ট ঘরের মধ্যে আদালত বসিয়ে তার বিচার করা হচ্ছে।

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যজোটের আহ্ববায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তারা ভেবেছে সবাইকে বাধা দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবে। তাহলে তাদের এই আসায় গুড়ে বালি। আমি খুব স্পষ্ট বলতে চাই। মিথ্যে কথা বলবেন না। এক বনে দুই রাজা থাকতে পারেনা। তেমনি এক দেশে দুই সংসদ থাকতে পারে না। আপনিও প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন না। পদত্যাগ করুন। নির্বাচন দিন। পদত্যাগ না করে ক্ষমতার ডান্ডা নিয়ে আমাদের পিঠে চড়বেন তা হতে পারে না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এদেশের মানুষ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। গত ১০ বছরে মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। এ জন্য একদিনে আমাদের ২২০০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেত্রীর ভালো চিকিৎসার কথা বলেছেন। কিন্তু একদিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নাকি আজ প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন। এটা মিথ্যা কথা। আমরা তাদের বিনা চ্যালেঞ্জে তাদের পার হতে দিতে পারি না। আমরা যদি মাঠে নামি জনতার জোয়ারে নৌকা ভেসে যাবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচন হতে পারেনা। গত ৫ই জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। আমাদের হাসিনার বাক্স থেকে নির্বাচনকে বের করে আনা দরকার। আওয়ামী লীগের সময় শেষ। তাদের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। প্রশাসনকে বলতে চাই। আপনাদের বেতন হয় জনগনের টাকায়। আজ যদি জনগণের পক্ষে না দাঁড়াতে পারেন তাহলে একদিন জবাবদিহিতা করতে হবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি বিএনপির জনসভায় আসি নাই। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে এসেছি। আমি মনে করি বাংলাদেশের রাজনীতি মানে খালেদা জিয়া। তাকে আর জেলে বন্দী করে রাখার সুযোগ নেই। আপনাদের এখানে যে কয়টি মেয়ে এসেছে তার অর্ধেক মেয়ে আমার দলে থাকলে ৭ দিনের মধ্যে হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করতাম।
জে এস ডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা সংলাপে গিয়েছিলাম। দেশকে বাঁচাতে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, নির্বাচনে আসতে দিন। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ আমাদের সঙ্গে। ৭ দফা না মেনে, ৯০ ভাগ মানুষের কথা না শুনে নির্বাচন হতে পারেনা। মরতে হলে মরব, কিন্তু দাবি ছাড়ব না। নির্বাচন যদি না পেছান তাহলে ইসি অভিমুখে পদযাত্রা হবে। রোডমার্চ হবে। লং মার্চ হবে। চলতে থাকবে। আমাদের দাবি মানতে হবে। তা না হলে জনতার আাদলতে বিচার হবে আপনাদের। রাস্তায় নামব। কি করবেন? জেলে নেবেন? আমি ৬ বার মারা গেছি। ১০ বছর এই জেলে ছিলাম।

এর আগে দুপুর আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এ সমাবেশ শুরু হয়।

তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যোগ দেননি ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু প্রমুখ।

দুপুর আড়াইটায় সমাবেশ শুরু হলেও জুমার পর থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
প্রসঙ্গত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ে নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীতে এটি চতুর্থ সমাবেশ।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

তার আগে ২৪ অক্টোবর সিলেটে ও ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে সমাবেশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com