বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

শহীদ উল্লাহ নিজেই একটি ‘ইয়াবা কারখানা’

ad

সিএন ডেস্ক।।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার হোসেনদী গ্রামের বৃদ্ধ শহীদ উল্লাহ (৬৫) যেন নিজেই একটি ‘ইয়াবা কারখানা।’ এই বৃদ্ধ লোকটি গত ৬ দিন ধরেই তার পাকস্থলী থেকে একের পর এক ইয়াবার চালান বের করছেন। সর্বশেষ গতকাল সোমবার তিনি কক্সবাজার কারাগারে পাকস্থলী থেকে বের করেছেন আরো এক হাজার ৮০ পিচ ইয়াবা। গত ৬ দিনে শহীদ উল্লাহর পেট থেকে ইয়াবা বের করা হয়েছে একে একে ৩ হাজার ৪৮০ পিচ।
কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ জানান, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের দায়ে আটক বৃদ্ধ শহীদ উল্লাহ গত ৩ নভেম্বর কক্সবাজার কারাগারে বন্দী হিসাবে স্থান পান। এর পর থেকেই তার গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। শহীদ উল্লাহ এক প্রকার অস্বস্থিতে থাকতেন।
গতকাল সোমবার সকালে কারাগারের জেলার শাহাদত হোছাইন তাকে ডেকে নিয়ে নানা কথা জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেন। এসময় বৃদ্ধ শহীদ উল্লাহ বলেন, তিনি টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার চালান নিয়ে বিজিবি সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন গত ৩১ অক্টোবর। এসময় বিজিবি সদস্যদের চাপাচাপিতে তার পাকস্থলীতে বের করেন দফায় দফায় ২ হাজার ৪০০ পিচ ইয়াবা।
টেকনাফ সীমান্তের দমদমিয়া বিজিবি ফাঁড়ির নায়েক মাহবুবর রহমান জানান, বৃদ্ধ শহীদ উল্লাহ কে ৩১ অক্টোবর আটক করা হয় টেকনাফ সীমান্তের জাদিমোড়া মসজিদ এলাকা থেকে। তার নিকট থেকে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার করেন ১০ হাজার ইয়াবার একটি চালান। বিজিবি সদস্যরা তার গতিবিধি দেখে পাকস্থলী থেকে কয়েক দফায় বের করেন আরো ২ হাজার ৪০০ পিচ ইয়াবা।
বিজিবি পরে টেকনাফ থানায় ইয়াবা সহ বৃদ্ধকে সোপর্দ্দ করেন। গত ৩ নভেম্বর পুলিশ শহীদুল্লাহকে আদালতে চালান করে দেয়। এদিনই তার স্থান হয় কক্সবাজার কারাগারে। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, দফায় দফায় বিজিবি ও পুলিশের চাপে পাকস্থলী থেকে আংশিক ইয়াবা বের করলেও কারাগারে বিক্রির জন্য অবশিষ্ট ইয়াবা পেটে ধারণ করে রাখেন পাচারকারি শহীদ উল্লাহ। কিন্তু তিনি কারাগারে তিন দিনেও নিরাপদে ইয়াবা বের করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
শেষ পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে গতকাল তার পেট থেকে ২৭ টি পোটলা বের করতে সক্ষম হয়। প্রতিটিতে ৪০ টি করে বের করা হয় এক হাজার ৮০ পিচ ইয়াবা। কারাগারের জেল সুপার জানান-‘ বৃদ্ধ শহীদ উল্লাহর পেট থেকে চতুর্থ দফায় এ পরিমাণ ইয়াবা বের করা হয়। মনে হয় যেন তিনি একটি ইয়াবার কারখানা।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে এখনো বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। শহীদ উল্লাহ স্বীকার করেছেন টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে এবার তিনি তৃতীয় দফায় ইয়াবা পাচার করে নিচ্ছিলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com