বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবে এমএসএফ

ad

শ.ম.গফুর,উখিয়া।।

“সীমান্ত বিহীন চিকিৎসক দল”এই শ্লোগানে মানবতার সেবাই নিয়োজিত এনজিও সংস্থা “মেডিসিন সান্স ফ্রন্টিয়ারস(এমএসএফ) হল্যান্ড উখিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছে।বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উখিয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে এমএসএফ এর বাংলাদেশের হেড অব মিশন পাব্লুস ক্লুবুশ তাদের সংস্থার কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।মি:ক্লুবুশ বলেছেন এমএসএফ
সংস্থাটি ১৯৭১ সালে ফ্রান্সের প্যারিস শহরে কয়েকজন সাংবাদিক,ডাক্তার মিলে গড়ে তুলেন।সেই থেকে সুবিধা বঞ্চিত, যুদ্ধবিগ্রহ, নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত, হতদরিদ্র,পঙ্গু অসহায় মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে।বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার কাজ ছাড়াও বর্তমানে বিশ্বের ৭০ টি দেশে এ সংস্থা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশে ১৯৮৫ সালে এমএসএফ’র যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯২ সালের শুরুর দিকে পুরোদমে কাজ শুরু করে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবাদানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্টির জন্যও চিকিৎসা সেবাদান উমুক্ত রাখার কথা জানান তিনি।বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য কাজ করা এমএসএফ’র কার্যক্রম পূর্বের তুলনায় আরও দশ গুণ বেড়েছে বলে তুলে ধরেন মি: ক্লুবুস।রোহিঙ্গা এবং স্থানীয়দের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আলাদা প্রকল্প। মারাত্মক রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষায় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কুতুপালংয়ে করেছে পৃথক হাসপাতাল আর ক্লিনিক।
এসব হাসপাতাল আর ক্লিনিকে ডিপথেরিয়া রোহিঙ্গাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা ঔষুধ পথ্য দেওয়া হচ্ছে।গত এক বছরে ডিপথেরিয়া আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের সনাক্ত করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে ৬৬৭৯ জনকে।তার মধ্যে ২৯৪৯ জন পুরোপুরি সুস্থ্য হয়েছে।পুনরায় যাতে আক্রান্ত না হয় সে ব্যাপারেও সর্তক এমএসএফ। সংস্থাটি চিকিৎসা সেবাই মাতৃত্বকালীন পরিচর্যা, নবজাতকেরর নিবীড় পরিচর্যা, মানসিক উন্নয়ন, প্রাইমারী হেলথ কেয়ার,সুপেয় পানি,পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা ও শিক্ষা প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে।রোহিঙ্গা ও স্থানীরা মিলিয়ে প্রতিদিন ১৫ হাজার মানুষ কে চিকিৎসা দিচ্ছেন।বর্তমানে ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা চিকিৎসাধীন আছেন এমএসএফ’র আওতায়।তারা ৮১% সফল বলে দাবী করেন।সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবাই কাজ করে ১৯৯৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান।সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আরও বিস্তারিত তুলে ধরেন এমএসএফ’র দায়ীত্নশীল
ফ্রান্সিকা,তাতিয়ানা,গ্রাবিয়েলা,ফ্রেডরিক,জুলিয়ানা,ফিল্ড কমিউনিকেশন কর্মকর্তা মোস্তফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন, ইমরান হোসেন, আলমগীর সহ দায়ীত্নশীল অন্য কর্মকর্তারা প্রমুখ।মতবিনিময় কালে উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন, সাধারণ সম্পাদক কমরুদ্দিন মুকুল,সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক রফিক উদ্দিন বাবুল,হানিফ আজাদ,নুর মোহাম্মদ সিকদার,হুমায়ুন কবির জুশান,রতন কান্তি দে,শফিক আজাদ,শ.ম.গফুর,পলাশ বড়ুয়া,শহীদুল ইসলাম,ওবাদুল হক চৌধুরী,মাহমদুল হক বাবুল,মোসলেহ উদ্দিন সহ স্থানীয় সাংবাদিক গণ উপস্থিত ছিলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 CoxBDNews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com