শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধের নির্দেশ

নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধের নির্দেশ

সিএন ডেস্ক।।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি হতে পারে। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারও হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিরও চক্রান্ত হতে পারে। তাই এইসব বিষয়ে জোরালো ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

ফেসবুকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কঠোরভাবে মনিটরিং করার তিনি নির্দেশ দেন। রোববার ক্রাইম কনফারেন্সে উপস্থিত পুলিশের বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্ধবার্ষিকী অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) অতিরিক্ত আইজিপিরা, পুলিশের সব ইউনিট প্রধান, সব ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলার এসপিরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সের শুরুতে নিজ নিজ ইউনিটের পক্ষ থেকে ছয় মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। এরপর মুক্ত আলোচনা শেষে এআইজি ফারুক আহমেদের ‘অপরাধ ও দণ্ড সমগ্র’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

১৯৮৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্যকর সব আইনের অপরাধ ও দণ্ডকে উপজীব্য করে বইটি রচিত হয়েছে।

ক্রাইম কনফারেন্সে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে এবং এজন্য পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।

যেসব কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে সেসব বিষয়ে আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভালো আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে ড. জাবেদ বলেন, সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নেতা, প্রগতিশীল ব্যক্তি ও বিদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে। তার আশঙ্কা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এইসব ব্যক্তি জঙ্গিগোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হতে পারেন।

তাই তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে। গার্মেন্ট সেক্টরে নৈরাজ্যের আশঙ্কা করে তিনি বলেন, নির্বাচনে আগে যাতে কোনো গার্মেন্টে বেতন বকেয়া না থাকে সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। গার্মেন্ট সেক্টরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা না দেয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের মতো হঠাৎ যেন কোনো আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে অনেক গুজব ছড়ানো হয়েছে। সেজন্য এখন থেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।

যেসব পুলিশ সদস্য ট্রাফিক আইন মানেন না তাদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করে দিয়ে আইজিপি ড. জাবেদ বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য রং সাইড দিয়ে গাড়ি চালাবেন বা হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালাবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ তাদের প্রতি ক্ষোভ থেকে কোনো পক্ষ রাস্তায় নামার সুযোগ নিতে পারে।

ড. জাবেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নৈরাজ্য ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উচিত হবে অধস্তন সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্রিফিং ও তদারকির মধ্যে রাখা।

প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রো-অ্যাকটিভ ও ইন্টেলিজেন্সভিত্তিক পুলিশিংয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব পুলিশ সদস্যকে শতভাগ পেশাদারিত্ব নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অরাজকতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। আশা প্রকাশ করে আইজিপি বলেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হব।

সভায় পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান ৬ মাসের (জানুয়ারি-জুন ২০১৮) সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। সভায় অপহরণ, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকদ্রব্য, চোরাচালান দ্রব্য, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, সড়ক দুর্ঘটনা, গাড়ি চুরি, রাজনৈতিক সহিংসতা, অপমৃত্যু, পুলিশ আক্রান্ত মামলাসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আবদুস সালাম, এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপি সিদ্দিকুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, এসবির অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 CoxBDnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com