মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

আসামে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলকে হেনস্থা

আসামে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলকে হেনস্থা

সিএন ডেস্ক।।

আসামে নাগরিকপঞ্জী থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সরব হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আসাম পুলিশ ভারতীয় দন্ডবিধির চারটি ধারায় তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে। এরই মধ্যে বৃহষ্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের আট সদস্যের এক প্রতিনিধি দলকে পুলিশ শিলচর বিমানবন্দরে হেনস্থা ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিলচরে দলীয় প্রতিনিধি দলকে হেনস্থার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দেশে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে। মমতার অভিযোগ, সব প্রটোকল মেনেই বৃহস্পতিবার শিলচরে ৬ সাংসদ, এক বিধায়ক এবং রাজ্যের এক মন্ত্রীকে হেনস্থা করা হয়েছে। মহিলাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। বিজেপি রাজনৈতিকভাবে নিরাশ হয়ে পড়েছে। এটাই তাদের শেষের শুরু বলে মন্তব্য করেন মমতা। তিনি আরও বলেন, আসামে যদি শান্তিই থাকতো তাহলে শিলচর জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হল কেন? বৃহস্পতিবার দুপুর দুটো নাগাদ নাগরিক কনভেনশনে যোগ দিতে শিলচর পৌঁছেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, মমতাবালা ঠাকুর, অর্পিতা ঘোষ, রতœা দে নাগ, নাদিমুল হক, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। সেখানে তাদের আটকে দেওয়া হয়েছে। পরে ফিরহাদ হাকিম শিলচর বিমানবন্দরে নামলে তাকেও আটকে রাখা হয়। মহিলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে রীতিমত ধ্বস্তাধস্তি হয়েছে আসাম পুলিশের। আসাম পুলিশের ডিজি এদিন বিকেলে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কাতেই আটক করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধিদের। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ, এখানে সম্পূর্ণ অবৈধ কার্যকলাপ চলছে। আমরা সবাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কেউ সাংসদ, কেউ মন্ত্রী, কেউ বিধায়ক। কিন্তু আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের অনেকের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমাদের আটকানো হচ্ছে। কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। এখানে এসে মনে হচ্ছে দেশে জরুরি অবস্থা চলছে। অপর তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অর্পিতা ঘোষের অভিযোগ, আমাদের আটকে দেওয়ার বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশিকা পুলিশ দেখাতে পারেনি। আমাদের যে আটক করা হয়েছে, সেকথাও পুলিশ বলছে না। আবার বিমানবন্দর থেকে বাইরে যেতেও দিচ্ছে না। পুরোপুরি বেআইনিভাবে আমাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, প্রথমে পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে বিমানবন্দরের ভিতরেই একপ্রস্থ বৈঠক করেছিলেন তারা। বৈঠকের পর জেলাশাসক, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতেই তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সুখেন্দু শেখরের অভিযোগ, নামতেই তাদের ঘিরে ধরে মারধর করে আসাম পুলিশ। তাদের গেস্ট হাউসেও যেতে দেওয়া হয়নি। সুখেন্দুশেখর বলেছেন, যতক্ষণ না তাদের শিলচরে ঢুকতে দেওয়া হবে, তারা বিমানবন্দরেই অবস্থান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন বলেছেন, মানুষের সঙ্গে দেখা করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সাংসদদের গায়ে কেন পুলিশ হাত দিল তা নিয়ে এদিন লোকসভাতেও তুমুল বাদানুবাদ হয় শাসক এবং বিরোধীদলের সাংসদদের মধ্যে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকপঞ্জী চালুর দাবিতে এদিন দুপুরে কলকাতার হাজরা মোড়ে মিছিল করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, আসামে দাঙ্গা বাঁধাতে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু পারেনি। আসামে নাগরিকপঞ্জী চালু হলেও সেখানকার শান্তিপ্রিয় মানুষ কোনও গন্ডগোল করেনি। তৃণমূল কংগ্রেসই জোর করে দাঙ্গা বাঁধাতে চাইছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 CoxBDnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com