বুধবার, ২২ অগাস্ট ২০১৮, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ইমরান খান

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ইমরান খান

সিএন ডেস্ক।

বিতর্ক। পাতানো খেলার গুঞ্জন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ছাপিয়ে পাকিস্তানের নির্বাচনের ম্যান অব দ্য ম্যাচ ইমরান খানই। ক্রিকেটের মহাতারকা এখন ক্ষমতার মসনদে। পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)। সর্বশেষ খবর অনুসারে, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে তার দল ১২০টি আসনে জয়লাভ করেছে। পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী বা অন্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে তার সরকার গঠন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এছাড়া, গতকাল বিকালে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে নিজের দলের বিজয় ঘোষণা করেছেন ইমরান খান। তিনি বলেন, জনগণ পিটিআইকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ইমরান খানই হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেটে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেয়া ইমরান খান এর মধ্য দিয়ে রাজনীতিতেও তার সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করলেন। ২২ বছর ধরে সংগ্রামের পর নিজের দলকে বসালেন ক্ষমতার মসনদে।

যদিও পিটিআই ছাড়া অন্য সব দলই নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, প্রভাবশালী সেনাবাহিনী নির্বাচনে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে। নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল-এন তো নির্বাচনের ফলাফলই প্রত্যাখ্যান করেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে অন্যতম। তারপরেও ইতিবাচক দিক হলো, পাকিস্তানিরা ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। এতে বোঝা যায়, তারা পাকিস্তানের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখতে চায়। বুধবার বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতা ছাড়া ভোটগ্রহণ বেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। এদিন সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল কোয়েটার আত্মঘাতী বোমা হামলা। এতে সেখানকার ৩১ জন অধিবাসী প্রাণ হারায়।

কে কত আসন পেলো?

সর্বশেষ খবর অনুসারে, পিটিআই ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ১২০টি আসনে জয়লাভ করেছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল-এন পেয়েছে ৬১টি আসন। বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি পেয়েছে ৪০টি আসন।

তবে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে পিটিআই খুব ভালো অবস্থানে নেই। প্রাদেশিক পরিষদগুলোর মধ্যে শুধু খাইবার পাখতুনখাওয়াতে পিটিআই এগিয়ে রয়েছে।

তবে পিএমএল-এন এর শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাবে দু’দলের মধ্যে সমানে সমানে লড়াই হয়েছে। সেখানে পিটিআই পেয়েছে ১২৩টি আসন। আর পিএমএল-এন ১৩২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এই অঞ্চলে বহুদিন ধরেই পিএমএল-এন এর কর্তৃত্ব চলছে। আর সিন্ধু প্রদেশে পিপিপি সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। সেখানে পিপিপি ৭০টি আসনে জয়লাভ করেছে। পিটিআই পেয়েছে ২২টি আসন। অন্যদিকে, মাত্র ৩টি আসন পেয়েছে নওয়াজের পিএমএল-এন। সেখানে এমকিউএম-পি ২০টি ও জিডিএ ১২টি আসন পেয়েছে।

শাহবাজের ফল প্রত্যাখ্যান, বিলাওয়ালের প্রশ্ন

নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন নওয়াজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন)-এর সভাপতি শাহবাজ শরীফ। প্রাথমিক ফল প্রত্যাখ্যান করে কারাবন্দি নওয়াজ শরীফের ভাই শাহবাজ শরীফ বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন। গভীর রাতে এক টুইটার বার্তায় তার অবস্থানের কথা জানান। ওদিকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও।

তিনি এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি)। শাহবাজ শরীফ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভোটে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে যে ফল ঘোষণা করেছে তা তার দল মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আমরা এ ফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করলাম। এ নির্বাচনে জনগণের রায়কে ভয়ঙ্করভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ভোট গণনার সময় সারা দেশেই আমাদের নির্বাচনী এজেন্টদের রাখা হয়নি। তাদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

গভীর রাতে এক টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন- স্পষ্ট এবং ব্যাপক অনিয়মের কারণে সাধারণ নির্বাচন-২০১৮ এর ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করলো পিএমএল-এন। আমাদের এজেন্টদের ৪৫ নম্বর ফরম দেয়া হয়নি, ভোট গণনার সময় আমাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। এই দুটো ঘটনাই অসহনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও রাত ১টা ২১ মিনিটে এক টুইটবার্তায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যরাত পার হলো এবং আমি আমার নিজের নির্বাচনী কোনো এলাকার ফলাফল এখনো হাতে পাইনি। আমার প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সারা দেশেই আমাদের পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এটা ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিদ্বেষপূর্ণ’।

তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগে তেমন সাড়া দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের সচিব বাবর ইয়াকুব ফতেহ দলগুলোকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করতে বলেন। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, যে দল নির্বাচনে ভালো অবস্থানে নেই, তাদের পোলিং এজেন্টরা স্বেচ্ছায় ভোটকেন্দ্র ছেড়ে গেছেন। যদি কোনো দল অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারে, অবশ্যই তা যাচাই করে দেখা হবে। পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনারও একই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি পিএমএল-এন দলের তোলা অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ না তোলা। নির্বাচন কমিশনে (ইসিপি) নিবন্ধিত ১২০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবারের সাধারণ নির্বাচনে ৯৫টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 CoxBDnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com