শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

রফিক উদ্দিন বাবুল,সিএন প্রতিবেদক:-

গত শুক্রবার মিয়ানমারে সেনা বহনকারী একটি গাড়ীতে সেখানকার বিদ্রোহী গ্রুপ আরসা’র সশস্ত্র হামলায় ১জন বর্মি সেনা নিহত ও ২জন আহত হওয়ার ঘটনায় রাখাইন এলাকা আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ করছে ঝাঁকে ঝাঁকে রোহিঙ্গা। বুধবার শীলখালী হয়ে প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা ভর্তি ট্টলার উপকূলে নোঙর করেছে। ওই ট্টলারে করে আসা প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যমান উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টির ফলে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যান্তরে সেনা টহল জোরদার করেছে। এপারে বিজিবিও সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে সদ্য আগত বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাখাইনের মংডু তোরাইন এলাকায় আরসা’র সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপ মিয়ানমার সেনাবাহিনী গাড়ী বহরে হামলা চালিয়েছে। ফলে একজন মিয়ানমার সেনা নিহত ও ১জন বেসামরিক লোক সহ ২জন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় রাখাইনের পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বর্মি সেনারা পাড়া গ্রামে গিয়ে আরসা সদস্যদের তল্লাশী নামে নিরহ রোহিঙ্গাদের মারধর, লুটপাট সহ নানা ধরনের মানষিক নির্যাতন শুরু করেছে।
রাখাইনের বুচিডং ছিনতাইং গ্রামের মোহাম্মদ ইউনূছের ছেলে মোহাম্মম সালাম (৪৫) জানায়, তাদের গ্রামটি ছিল একটি নির্জন এলাকায়। সেখানে কোনদিন বর্মি সেনা,বিজিপি যায়নি। যে কারণে ছিনতাইং গ্রামের কোন মানুষ এ পর্যন্তও এদেশে আসেনি। শুক্রবার আরসার সশস্ত্র হামলায় বর্মি সেনারা রাগান্বিত হয়ে আবারো জুলুম,অত্যাচর,নির্যাতন শুরু করেছে। সে জানায়, ২টি যুবতি মেয়ে মরিয়ম(১৬) ছখিনা (১৮) সহ ৭জন ছেলে/মেয়ে নিয়ে ৩দিন ৩রাত পাহাড় নদী, খাল-বিল, পার হয়ে বুধবার মিয়ানমারের ধনখালী ঘাট থেকে ট্টলার ভাড়া করে সমুদ্রপথে শীলখালী উঠেছেন। সেখান স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা তারা কুতুপালং ক্যাম্প পর্যন্ত পৌছতে পেরেছেন। একই গ্রাম থেকে ৮সদস্যের পরিবার পরিজন নিয়ে আসা লাল মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২) জানায়, তারা যখন মিয়ানমারের ধনখালী ঘাটে ট্টলারের জন্য অপেক্ষা করছিল, তখল জানতে পেরেছে মিয়ানমার সেনারা তাদের বাড়ী-ঘর লুটপাট করে আগুণ দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে। ছিনতাইং গ্রামের মাহামুদুর রহমানের ছেলে আব্দুল গণি (৩৯) জানায়, ছিনতাইং গ্রামের প্রায় ২শতাধিক পরিবার যখন গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলাকিন্ন পথে এগুচ্ছিল তখন তারা বেশ কয়েকটি গুলির আওয়াজ শুনেছেন। পরে জানা গেছে বর্মি সেনা সোনা মিয়া(১৮) ও শামসুল আলম (২২) কে গুলি করে হত্যা করেছে। আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা )আইওএমর প্রোগ্রাম অফিসার সৈকত বিশ^াস জানান, গত ৫দিন ধরে বিচ্ছিন্ন ভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। এসব রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্টিক পদ্ধতি সম্পন্ন করে এবং তাদের শরীরে কোন ডিপথেরিয়া আছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
উখিয়া-টেকনাফের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাউলাউ মার্মা জানান, গত ২দিনে ২শতাধিক রোহিঙ্গা এসেছে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ বলেন আরসার ঘটনার পর থেকে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যান্তরে তারা অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে। যে কারনে আমাদেরকেও সীমান্তে বিজিবি’দের সতর্ক রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এঘটনার পর থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 CoxBDnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com